অভিভাবকত্বের দক্ষতা মায়ের ভালোবাসা: বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের শেষ ইচ্ছা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল ছেলে এম টি ইসলাম মুন্না (বিএসসি, এমবিএ, এমএড)September 8, 20260163 views ১.০ যে ভালোবাসার মূল্য আমরা অনেক সময় দেরিতে বুঝি দুপুরটা ছিল অন্য দিনের মতোই ব্যস্ত। অফিসের টেবিলে ফাইলের স্তূপ, ফোনের পর ফোন, মাথার মধ্যে সংসারের নানা হিসাব। ঠিক সেই সময় একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলো আনিসের মোবাইলে। ওপাশ থেকে একজন শান্ত কিন্তু উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, “আপনি কি আনিস সাহেব? আপনার মায়ের অবস্থা খুব খারাপ। সম্ভব হলে এখনই চলে আসুন।” এক মুহূর্তে যেন আনিসের চারপাশের সমস্ত শব্দ থেমে গেল। বৃদ্ধাশ্রম। মা। আর “অবস্থা খুব খারাপ”—এই তিনটি শব্দ তার বুকের ভেতর কেমন একটা অজানা ভয় তৈরি করল। সেদিনই আনিস প্রথমবার গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল, মায়ের ভালোবাসা শুধু সন্তানকে বড় করার গল্প নয়। মা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সুখের জন্য নিজের জীবনটাকেও নিঃশব্দে সরিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু সেই সত্য বুঝতে আনিসের হয়তো একটু বেশিই দেরি হয়ে গিয়েছিল। ২.০ মায়ের ভালোবাসা দিয়ে ঘেরা ছিল আনিসের শৈশব আমার নাম আনিস। আমরা তিন ভাইবোন। আমার দুই বোন আমার চেয়ে বড়। আমি ছিলাম পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান। ছোটবেলায় আমার জীবন ছিল অনেকটাই নিশ্চিন্ত। আমার মনে হতো, যা চাইব, বাবা-মা somehow সেটাই এনে দেবেন। নতুন জামা চাইলে জামা আসত। স্কুলের প্রয়োজনীয় কিছু চাইলে বাবা চেষ্টা করতেন যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করতে। কোনো খাবার খেতে ইচ্ছে করলে মা নিজের জন্য না রেখে সেটুকু আমার সামনে তুলে দিতেন। তখন বুঝিনি—আমাদের ছোট ছোট আনন্দের পেছনে বাবা-মায়ের কত বড় বড় ত্যাগ লুকিয়ে ছিল। অনেক পরে বুঝেছি, বাবা-মা আমাদের তিন ভাইবোনকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজেদের বহু ইচ্ছা অপূর্ণ রেখেছেন। হয়তো বাবার নতুন একটি পাঞ্জাবি কেনার ইচ্ছে ছিল, কেনেননি। হয়তো মা বহুদিন ধরে কোথাও বেড়াতে যেতে চেয়েছিলেন, যাননি। কারণ সন্তানদের প্রয়োজনটাই তাদের কাছে সবসময় আগে ছিল। এটাই হয়তো বাবা-মায়ের ভালোবাসার সবচেয়ে নীরব রূপ—তারা ত্যাগ করেন, কিন্তু সেই ত্যাগের হিসাব কখনো সন্তানদের সামনে তুলে ধরেন না। ৩.০ বোনদের বিয়ে, তারপর বদলে যাওয়া সংসার সময় চলতে লাগল। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেল। তারা নিজেদের স্বামী-সন্তান এবং সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আলহামদুলিল্লাহ, তারা ভালোই ছিল। এরপর বাবা-মায়ের সমস্ত মনোযোগ এসে পড়ল আমার দিকে। অনেক আয়োজন করে আমার বিয়ে দিলেন। বিয়ের প্রথম দিকে সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে অদ্ভুত একটি পরিবর্তন আমার মধ্যে শুরু হলো। যে বাবা-মাকে একসময় আমার সবচেয়ে আপন মনে হতো, তাঁদের নানা কথা আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করল। মা কিছু বললে মনে হতো বেশি কথা বলছেন। বাবা কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিলে মনে হতো তিনি আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছেন। কেন এমন হচ্ছিল, তখন নিজেও পরিষ্কার বুঝতাম না। জীবনের ব্যস্ততা, নতুন সংসার, দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যে আমি হয়তো ভুলে যাচ্ছিলাম সেই মানুষগুলোর কথা, যাঁরা তাঁদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টা আমাদের জন্য ব্যয় করেছিলেন। ৪.০ বাবার মৃত্যু এবং একা হয়ে যাওয়া মা এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ বাবা মারা গেলেন। আমাদের পরিবারের জন্য সেটা ছিল বিশাল এক ধাক্কা। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এলো মায়ের জীবনে। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী চলে যাওয়ার পর মা যেন হঠাৎ করেই অনেকটা নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। আগে ঘরের মধ্যে বাবার সঙ্গে কথা বলতেন। ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া করতেন। আবার কিছুক্ষণ পর দুজন বসে চা খেতেন। এখন সেই মানুষটি নেই। মা মাঝে মাঝে চুপচাপ বসে থাকতেন। আমি দেখতাম। কিন্তু দেখা আর অনুভব করা এক জিনিস নয়। আমি তখন নিজের চাকরি, সংসার আর ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে মায়ের নিঃসঙ্গতার গভীরতা বুঝতে পারিনি। ৫.০ মায়ের ভালোবাসা ভুলে যখন বৃদ্ধাশ্রমের সিদ্ধান্ত বাবা মারা যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর আমাদের একটি ছেলে হলো। ঘরে নতুন অতিথির আগমন আমাদের জীবনে আনন্দ নিয়ে এলো। কিন্তু একই সঙ্গে বেড়ে গেল দায়িত্বও। আমি চাকরি করতাম। দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতে হতো। আমার স্ত্রীকে সন্তান সামলাতে হতো, ঘরের কাজ করতে হতো এবং মায়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হতো। সব মিলিয়ে সংসারটা যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। একদিন আমার মাথায় একটি চিন্তা এলো— মাকে যদি বৃদ্ধাশ্রমে রাখা যায়? নিজের কাছে সিদ্ধান্তটিকে যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করলাম। ভাবলাম, সেখানে মায়ের বয়সী আরও মানুষ থাকবেন। কথা বলার লোক পাবেন। তাঁর দেখাশোনাও হবে। কিন্তু মা যখন শুনলেন, সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেন না। তিনি বললেন, “বাবা, আমি তো এখানে কোনো সমস্যা করছি না। আমাকে এখানেই থাকতে দে।” আজও সেই কথাগুলো মনে পড়লে বুকের ভেতর কেমন করে ওঠে। কিন্তু সেদিন আমি মায়ের অনুরোধ শুনিনি। একদিন প্রায় জোর করেই তাঁকে কাছের একটি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এলাম। ৬.০ সাধারণ একটি বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের নতুন জীবন আমার আর্থিক সামর্থ্য খুব বেশি ছিল না। তাই ভালো সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কোনো বৃদ্ধাশ্রমে মাকে রাখা সম্ভব হয়নি। যে বৃদ্ধাশ্রমটিতে তাঁকে রেখেছিলাম সেটি ছিল খুবই সাধারণ। ছোট ছোট কক্ষ, সীমিত সুযোগ-সুবিধা, গরমের দিনে অস্বস্তিকর পরিবেশ। প্রথম দিকে আমি সপ্তাহে একদিন মাকে দেখতে যেতাম। প্রতিবারই মা আমাকে দেখে হাসতেন। জিজ্ঞেস করতেন, “বউমা ভালো আছে? আমার নাতিটা কী করছে?” আশ্চর্যের বিষয়, তিনি খুব কমই নিজের সমস্যার কথা বলতেন। আমি হয়তো জিজ্ঞেস করতাম, “তোমার কিছু লাগবে?” মা বলতেন, “না বাবা, আমি ভালো আছি।” এটাই ছিল মায়ের ভালোবাসা—নিজের অসুবিধার মধ্যেও সন্তানের ওপর বাড়তি চাপ দিতে না চাওয়া। ৭.০ ব্যস্ততা যখন সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয় কয়েক মাস এভাবেই চলল। তারপর অফিসের কাজ বাড়ল। বাসাতেও নানা সমস্যা। এক সপ্তাহ গেল। তারপর আরেক সপ্তাহ। ভাবতাম, আগামী শুক্রবার মাকে দেখতে যাব। কিন্তু শুক্রবার আসত, আবার কোনো না কোনো কাজ পড়ে যেত। এভাবে কয়েক সপ্তাহ আমি বৃদ্ধাশ্রমে যেতে পারিনি। মাঝে মাঝে মায়ের কথা মনে পড়ত। নিজেকে বলতাম, “আর কয়েকটা দিন। কাজ একটু কমলেই যাব।” আমরা জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এভাবেই “পরে”র জন্য রেখে দিই। কিন্তু একটি সত্য আমরা ভুলে যাই— সময় সবসময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করে না। ৮.০ ফোনটি যেদিন সবকিছু বদলে দিল সেদিন দুপুরে বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফোন এলো। ডাক্তার বললেন, “আপনার মায়ের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আপনার দ্রুত চলে আসা উচিত।” আমি আর কিছু না ভেবে বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তার পুরোটা সময় আমার ভেতরে অদ্ভুত একটি অস্থিরতা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, কেন এতদিন যাইনি? কেন ফোন করিনি? কেন একবারও ভেবে দেখিনি মা হয়তো আমার অপেক্ষায় আছেন? বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে মায়ের ঘরে ঢুকতেই আমার বুকটা কেঁপে উঠল। মা বিছানায় শুয়ে ছিলেন। শরীর খুব দুর্বল। মুখে সেই আগের শক্তি নেই। আমি তাঁর পাশে বসে হাতটা ধরলাম। আর তখনই জীবনের বহু পুরোনো স্মৃতি একসঙ্গে ফিরে এলো। শৈশবে জ্বর হলে মা সারারাত পাশে বসে থাকতেন। আমি না খেলে মা নিজেও ঠিকমতো খেতেন না। স্কুলে যাওয়ার আগে জামা ঠিক করে দিতেন। আমার পরীক্ষার সময় আমার চেয়ে যেন তিনিই বেশি চিন্তিত থাকতেন। সেই মানুষটির জীবনের শেষ সময়ে আমি কোথায় ছিলাম? ৯.০ মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ পেল শেষ ইচ্ছায় অনুশোচনায় আমার বুক ভার হয়ে এলো। মাকে বললাম, “মা, তোমার এমন কোনো ইচ্ছে আছে যেটা আমি এখনো পূরণ করতে পারি? তুমি বলো। আমি চেষ্টা করব।” আমি ভেবেছিলাম মা হয়তো বলবেন— আমাকে ভালো হাসপাতালে নিয়ে চল। অথবা বলবেন— আমার পাশে থাক। কিন্তু মা অন্য কথা বললেন। খুব দুর্বল কণ্ঠে বললেন, “বাবা, এখানে কয়েকটা ফ্যান লাগিয়ে দিস। গরমে সবাই খুব কষ্ট পায়।” আমি অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকালাম। মা আবার বললেন, “আর সম্ভব হলে একটা ফ্রিজ কিনে দিস। ফ্রিজ না থাকায় খাবার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক বয়স্ক মানুষ তখন ঠিকমতো খেতে পারে না।” আমার মাথায় তখনও একটি প্রশ্ন ঘুরছিল। এই মানুষটির নিজের জীবনই যখন শেষের দিকে, তিনি কেন বৃদ্ধাশ্রমের ফ্যান আর ফ্রিজ নিয়ে চিন্তা করছেন? আমি বললাম, “মা, তুমি যদি মনে করো তোমার সময় খুব কম, তাহলে এগুলো কিনে দিলে তোমার কী লাভ?” মা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটি কথা বললেন, যা আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিল। ১০.০ “তোর যদি কোনোদিন এখানে আসতে হয়…” মা বললেন, “বাবারে, আমার চিন্তা নিজের জন্য না। আমার চিন্তা তোর জন্য।” আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মা ধীরে ধীরে বললেন, “একদিন তোর ছেলেও তো বড় হবে। যদি কোনোদিন সে তোকে এখানে রেখে যায়, তখন যেন গরমে কষ্ট না হয়। খাবার যেন নষ্ট না হয়। তাই মরার আগে দেখে যেতে চাই, জায়গাটায় একটু ভালো ব্যবস্থা হয়েছে।” আমি আর কোনো কথা বলতে পারলাম না। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। যে ছেলেটি নিজের সুবিধার জন্য মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে, সেই মাও মৃত্যুর মুহূর্তে নিজের কথা ভাবছেন না। তিনি ভাবছেন— সেই ছেলের ভবিষ্যৎ কষ্ট কীভাবে একটু কমানো যায়। এটাই মায়ের ভালোবাসা। সন্তান ভুল করলেও মায়ের হৃদয় তাকে ঘৃণা করতে শেখে না। সন্তান দূরে ঠেলে দিলেও মা তার জন্য দোয়া করতে ভুলে যান না। সন্তান নিজের দায়িত্ব ভুলে গেলেও মা নিজের দায়িত্ব ভুলে যেতে পারেন না। ১১.০ দেরিতে জাগা উপলব্ধি সেই মুহূর্তে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম— না, আর নয়। আমি মাকে আর বৃদ্ধাশ্রমে রাখব না। আমি তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। সংসারে যত কষ্টই হোক, ব্যবস্থা করব। নিজের জীবনযাপন বদলাব। প্রয়োজনে আরও দায়িত্ব নেব। কিন্তু মাকে আর একা থাকতে দেব না। আমি তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে শুরু করলাম। মাকে নিয়ে গাড়িতে উঠলাম। মনে মনে বলছিলাম, “মা, এবার তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। সব ঠিক করে দেব।” কিন্তু মানুষ অনেক পরিকল্পনা করে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় পায় না। ১২.০ মায়ের বাড়ি ফেরা আর হলো না বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই মায়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন। আমি তাঁর হাত ধরে বসে ছিলাম। কিন্তু আর একবারও বলতে পারলাম না— “মা, আমাকে ক্ষমা করে দিও।” সেদিন আমার মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে কিছু ভুল আছে যেগুলো ঠিক করার সুযোগ মানুষ দ্বিতীয়বার পায় না। কিছু মানুষকে আমরা তখনই মূল্য দিতে শিখি, যখন তাদের আর ফিরে পাওয়ার উপায় থাকে না। ১৩.০ মায়ের ভালোবাসা কখনো সন্তানের হিসাব রাখে না মায়ের মৃত্যুর পর আমি অনেকবার তাঁর শেষ কথাগুলো ভেবেছি। তিনি নিজের জন্য ভালো বিছানা চাননি। নিজের চিকিৎসার জন্য টাকা চাননি। নিজের কষ্টের অভিযোগও করেননি। মৃত্যুর কাছাকাছি দাঁড়িয়েও তাঁর চিন্তা ছিল সেই সন্তানকে নিয়ে, যে তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গিয়েছিল। মায়ের ভালোবাসা এমনই। এটি কোনো ব্যবসা নয় যেখানে দেওয়া-নেওয়ার হিসাব থাকে। মা সন্তানকে ভালোবাসেন কারণ সে তাঁর সন্তান। আমরা বড় হওয়ার পর অনেক সময় মনে করি, বাবা-মা আমাদের জীবনের একটি দায়িত্ব মাত্র। কিন্তু ভুলে যাই—আমরা যখন নিজের কোনো দায়িত্বই নিতে পারতাম না, তখন তাঁরাই ছিলেন আমাদের পুরো পৃথিবী। বাবা-মা বয়স হলে তাঁরা হয়তো ধীরে হাঁটবেন। একই কথা বারবার বলবেন। নতুন প্রযুক্তি বুঝবেন না। হয়তো ছোটখাটো বিষয়ে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, একদিন আমরাও ঠিক তেমন অসহায় ছিলাম। তখন তাঁরা বিরক্ত হননি। আমাদের হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন। আমাদের শত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আমাদের কান্নায় ঘুম ভেঙেছে। আজ তাঁদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি আমাদের দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং মানবিকতার পরীক্ষা। আনিস হয়তো সেই শিক্ষা পেয়েছিল খুব দেরিতে। কিন্তু তার মায়ের শেষ কথাগুলো আমাদের জন্যও একটি প্রশ্ন রেখে যায়— আমাদের বাবা-মা যখন এখনো আমাদের পাশে আছেন, আমরা কি তাঁদের যথেষ্ট সময় দিচ্ছি? কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়গুলোর একটি হলো মায়ের ভালোবাসা। আর সেই আশ্রয় হারিয়ে গেলে মানুষ তখনই বুঝতে পারে— মা শুধু পরিবারের একজন সদস্য নন; অনেকের জীবনে মা-ই ছিলেন সেই মানুষ, যিনি নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জীবনকে সুখী করতে চেয়েছেন।